হোমিওপ্যাথি কি?

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতিষ্ঠাতা – ডা. স্যামুয়েল ফ্রেডারিক হ্যানিম্যান। Homeopathy ইংরেজী শব্দটি গ্রীক শব্দ homeo বা homoios বা pathy বা pathos থেকে উৎপন্ন হয়েছে। গ্রীক ভাষায় হোমিও মানে সদৃশ, like similarly বা pathos মানে উপায় পদ্ধতি বা কষ্টভোগ – means, method or suffering অভিধানিক অর্থে হোমিওপ্যাথির অর্থ হল “‍‍সদৃশ রোগ বা সদৃশ দুর্ভোগ।”

রোগ নিরাময়ের প্রাকৃতিক নিয়ম “Similia Similibus Curantur” এর বাক্যগত অর্থ let like be cured by like অর্থাৎ সদৃশ রোগ সৃজনক্ষম ঔষধ দিয়েই রোগ আরোগ্য সম্ভব।

হোমিওপ্যাথি একটি সুসংগঠিত নিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং আরোগ্যকলা। যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল সূত্র হচ্ছে- সুস্থাবস্থায় কোন ঔষধ স্থুল মাত্রায় সেবন করলে মানুষের দেহে ও মনে যে সকল অসুস্থকর লক্ষণ প্রকাশ পায়, ঐ প্রকার লক্ষণ যুক্ত প্রাকৃতিক অসুস্থতায় উক্ত ঔষধের শক্তিকৃত সূক্ষ্মমাত্রা প্রয়োগে লক্ষণসমূহ অন্তর্হিত হয়।

এই চিকিৎসা বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্য এই যে এটা প্রাকৃতিক নীতি সম্মত। প্রকৃতির আরোগ্য বিধানের শাশ্বত নিয়মের উপর ভিত্তি করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রাকৃতিক বিধান রচিত হয়েছে।

এই তত্ত্বের মূলকথা হল মানব দেহে সংক্রামিত দুর্বলতর প্রাকৃতিক রোগ অধিকতর শক্তিশালী অপর এক রোগের সংক্রমণ দ্বারা স্থায়ীভাবে নির্মূল করা যায় যদি শেষোক্ত রোগটি ভিন্ন কারণ হইতে উৎপন্ন হয় অথচ পূর্বতর রোগের সঙ্গে সদৃশ লক্ষণ বিশিষ্ট হয়।

নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র হতে আমরা জানতে পারি যে, “ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সমান ও বিপরীত” এই তৃতীয় সূত্রের উপরই হ্যানিম্যানের আরোগ্যনীতি প্রতিষ্ঠিত।

হোমিওপ্যাথি এমন এক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যে চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীর রোগ লক্ষণের সদৃশ রোগ লক্ষণ সৃষ্টিকারী ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

ঔষধ পরীক্ষণ নীতিতে সুস্থ মানব দেহে ঔষধ পরীক্ষা করলে যে সব লক্ষণ উৎপন্ন হয়, তার সদৃশ লক্ষণের রোগীকে ঐ ঔষধেই আরোগ্য করার নাম হোমিওপ্যাথি।

হোমিওপ্যাথি’র সংজ্ঞা নিম্নোক্তভাবে দেওয়া যায়-

যে চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীর রোগ লক্ষণের সদৃশ রোগ লক্ষণ সৃষ্টিকারী ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

আরোগ্যের আদর্শ ও স্বাস্থ্যরক্ষা বিষয়ে চিকিৎসকের জ্ঞাতব্য ও কর্তব্য, চিকিৎসকের চারিত্রিক গুণাবলী, রোগী চিকিৎসার ক্ষেত্রে লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহের পদ্ধতি ও সদৃশ লক্ষণের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচনের নিয়মসহ শক্তিকৃত সূক্ষমাত্রায় পরিবর্তনশীল শক্তিতে ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে রোগারোগ্যের কলাকৌশল সম্পর্কিত বিবরণ পাওয়া যায়।

চিকিৎসকের জীবনের মহৎ উদ্দেশ্য আদর্শ আরোগ্য সম্বন্ধে জানা যায়, সদৃশ লক্ষণে চিকিৎসার শ্রেষ্ঠত্ব সম্বন্ধে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পাওয়া যায়, জীবনীশক্তি, রোগ শক্তি, ঔষধ প্রয়োগ, আরোগ্যের বিঘ্নকর অবস্থা প্রভৃতি উল্লেখ আছে তাই হোমিওপ্যাথি।

বিধিবদ্ধভাবে অনেক হোমিও মনীষী হোমিওপ্যাথির বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিম্নে কয়েকটি সংজ্ঞার উল্লেখ করা হল-

ডাঃ বোরিকের মতে সদৃশ লক্ষণ ভিত্তিতে আরোগ্য পদ্ধতিকে হোমিওপ্যাথি বলে।

ডাঃ এলেনের মতে হোমিওপ্যাথি সদৃশ বিধান ভিত্তিক একটি নিয়ম ভিত্তিক চিকিৎসা শাস্ত্র।

ডাঃ এ, ডাইট স্মিথ বলেন, হোমিওপ্যাথি একটি বিশেষ আরোগ্য বিজ্ঞান, ডাঃ স্যামুয়েল ফ্রেডারিক হ্যানিম্যান যার বিকাশ সাধন করেছেন এবং যা আরোগ্যের বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।

ডাঃ হাবাট এ. রবার্টস এর মতে আরোগ্যের যে বিজ্ঞান ও কলা প্রকৃতির মৌলিক নিয়ম নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত, তাকেই হোমিওপ্যাথি বলে।

হোমিওপ্যাথি কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *