আঁচিলের সেরা হোমিওপ্যাথিক ওষুধ

অধিকাংশ মানুষের জীবিতাবস্থায় কখনো না কখনো শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রকার আঁচিল হয়ে থাকে। সাধারণত এরা আকারে ছোট হয়। অধিকাংশ আঁচিলেই কোনো ধরনের ব্যথা হয় না। সঠিকভাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করা হলে সব ধরণের আঁচিল (Wart) এবং কন্ডিলোমাটা (Condylomata Latum) এর শ্রেষ্ঠ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ থুজা অক্সিডেন্টালিস দিয়ে অত্যন্ত সফলতার সাথে চিকিৎসা সম্ভব।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, এক প্রকার ডিএনএ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস এইচপিবি এর দ্বারা ত্বক সংক্রমিত হলে আঁচিল হয়।

এরা সাধারণত ক্ষতিকারক নয়। তবে আঁচিলের কারণে ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। চেহারায় এমন পরিবর্তন আসে যা দেখতে বিশ্রী ও অসুস্থ দেখায়। অসুন্দর চেহারা কারোরই ভালো লাগে না।

কখনো কখনো আঁচিল চুলকায় ও ব্যথা করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আঁচিলে সামান্য একটু ঘঁষা লাগলে রক্তপাত হয়।

আঁচিল কত প্রকার?

বিভিন্ন প্রকার আঁচিল হয়ে থাকে। যেমন-

১। সাধারণ আঁচিল – যেগুলো প্রধানত হাতে হয় বটে তবে যেকোনো জায়গাতেই হতে পারে।

২। চেপ্টা আঁচিল – যেগুলো মুখে ও কপালে হয়ে থাকে। বাচ্চাদের প্রায়ই হয়ে থাকে। কিশোর ও প্রাপ্ত বয়সে এ ধরনের আঁচিল হয় না বললেই চলে।

৩। জননাঙ্গের আঁচিল – সাধারণত জননাঙ্গের আশেপাশে, জংঙ্ঘায় এবং জননেন্দ্রিয়ের ভেতরে হতে পারে।

৪। প্লান্টার আঁচিল – পায়ের পাতার নিচে হয় এবং সাবুংগুয়াল এবং পেরিয়াংগুয়াল আঁচিল – আঙ্গুল ও বুড়ো আঙুলের আশেপাশে দেখা দেয়।

৫। সাধারণ মসৃণ ও ত্বকের রংয়ের আঁচিল – যখন বাড়তে থাকে তখন এতে কিছুটা অসাধারণত্বঃ দেখা যায় ও মোটা মাংসখন্ডের মত দেখায়।

আঁচিল (Wart) এবং কন্ডিলোমাটা (Condylomata Latum), এক্সক্রিসেন্সেস এর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

থুজা অক্সিডেন্টালিস গাছ
থুজা গাছ

থুজা অক্সিডেন্টালিস একটি ২০ মিটার লম্বা গাছ। যার হালকা লাল ও বাদামী রঙের পাতলা ও লম্বা ডাল উর্দ্ধমূখী।

এই গাছের পাতা গোল ও তীক্ষ্ণাগ্র। আমেরিকাতে পাওয়া যায়। তবে এখন ভারত ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও রোপণ করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে থুজা অক্সিডেন্টালিস অভ্যন্তরীণভাবে খাবার ওষুধ হিসেবে আঁচিল (Wart) ও ত্বকের কন্ডিলোমাটা, এক্সক্রিসেনসিজ ইত্যাদি সমস্যায় হোমিওপ্যাথিতে সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে।

থুজা অক্সিডেন্টালিস এর বাহ্যিক ব্যবহার

থুজাকে আঁচিল চিকিৎসায় বাহ্যিকভাবে ও ব্যবহার করা যায়।

আঁচিল ও কন্ডিলোমাটা, এক্সক্রিসেনসিজ ইত্যাদিতে ত্বক আক্রান্ত হলে তার উপর থুজা অক্সিডেন্টালিস এর টিঙ্কচারকে হালকাভাবে ঘঁষে অথবা প্রলেপ দেয়া যায়।

থুজার এইরূপ বাহ্যিক ব্যবহারে অনেক ক্ষেত্রেই আশ্চর্যজনকভাবে অতি অল্প সময়ে আঁচিল বা কন্ডিলোমাটা ভালো হতে দেখা যায়।

আঁচিল চিকিৎসায় ব্যবহৃত অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধের লক্ষণ নির্দেশিকা

কষ্টিকাম – মুক্তোদানার মতো দেখতে আঁচিলের প্রধান ওষুধ। এছাড়া মুখে যে সকল আঁচিল হতে দেখা যায় সে সমস্ত আঁচিলের চিকিৎসায় কষ্টিকাম খুবই কার্যকরী।

এসিড নাইট্রিক – যে সমস্ত আঁচিলে প্রায়ই রক্তপাত হয় এবং চর্ম ও শ্লেষ্মা ঝিল্লির সংযোগস্থলে যেমন- মলদ্বার, দুই ঠোঁটের কোণ, ইত্যাদি স্থানে বেশি হতে দেখা যায় এমন আঁচিল সমূহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়া পারদ ও সিফিলিস দোষে দুষ্ট শরীরের আঁচিলের চিকিৎসার জন্য প্রধান ওষুধ এই এসিড নাইট্রিক।

নেট্রাম সালফ – লাল আঁচিল চিকিৎসায় কার্যকর।

কেলি কার্ব – মোটাসোটা থলথলে মাংসপেশী যুক্ত ব্যাক্তিদের আঁচিলে চুলকানি থাকলে কেলি কার্ব ভালো কাজ করে।

নেট্রাম কার্ব – স্নায়বিক দুর্বলতা যুক্ত ব্যাক্তি, বিশেষ করে যারা সামান্য শব্দে অতিরিক্ত অনুভূতি প্রবণ তাদের পিঠের আঁচিল চিকিৎসায় কার্যকর।

এছাড়া সর্বাঙ্গীন লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহ করে রোগীর লক্ষণ ও উপসর্গের সাথে ওষুধের লক্ষণের সামঞ্জস্যতা বিবেচনা করে যে কোন ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।

আঁচিলের সেরা হোমিওপ্যাথিক ওষুধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *